Stress: স্ট্রেস এবং টেনশন কমানোর ১৪টি সহজ উপায়

Share It!

বাড়িতে ঝামেলা বা অফিসের কাজের চাপ,ব্যক্তিগত জীবনে টেনশন (Tension) তৈরি হয় হাজারো কারণে আর এই টেনশনের হাত ধরেই উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, হৃদরোগের সমস্যা হয়ে  যায়। আপনি এটা জেনে অবাক হবেন যে আমরা যখন মানসিকভাবে ক্লান্ত বোধ করি তখন শারীরিক ক্লান্তিই আমাদের উপর বেশি আধিপত্য বিস্তার করে। আমরা যদি মানসিকভাবে অসুস্থ হই তাহলে শারীরিকভাবেও আমরা সব সময় ক্লান্ত বোধ করি। টেনশন এবং স্ট্রেসের কারণে, যদি তারা দীর্ঘ সময় ধরে থাকে, তাহলে তারা রোগীকে হতাশার দিকে ঠেলে দিতে পারে। এ কারণেই তাদের সময়মতো চিহ্নিত করা গুরুত্বপূর্ণ। 

 

তাই টেনশন দূর করার জন্য চিকিৎসকরা অনেক পরামর্শ দিয়ে থাকেন। যদি একটু যুক্তি দিয়ে জীবনকে চালনা করা যায় তাহলে খুব সহজে টেনশন দূর করা যায়। এর পাশাপাশি যদি একটু সচেতন এবং মনের জোর রেখে এগোনো যাই তাহলে আরো ভালো হয়।

টেনশন কাকে বলে

টেনশন হলো একটা মানসিক চাপ বা শারীরিক উত্তেজনা অনুভূতি। এটি যে কোনও ঘটনা বা চিন্তা থেকে আসতে পারে যা আপনাকে হতাশ, রাগান্বিত বা নার্ভাস করে তোলে। টেনশন হলো একরকম স্ট্রেস (stress) ইহা আপনার দেহের একটি প্রতিক্রিয়া। 

স্ট্রেস বা টেনশন কেন হয়

  • আমাদের দৈনন্দিন জীবনে চলার পথে হাজারো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তার জন্য আমাদের মনের মধ্যে জন্ম নেয় স্ট্রেস এবং যার পরিণতি হলো টেনশন।
  • কোরোনা মহামারীতে পৃথিবীতে কোটি কোটি মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে তাই এই সকল মানুষের প্রতিদিনের রুজি রোজগার এর উপর একটা বিপুল চাপ সৃষ্টি হয়েছে যার ফলস্বরূপ জীবনে টেনশন।
  • এছাড়াও অফিসের বিপুল পরিমানের কাজের চাপ,সেখানে ঝামেলাও এই টেনশন এর অন্যতম কারণ হয়ে অবস্থান করেছে আমাদের শরীরে।
Read More:  Benefits of Papaya:পেঁপে খাওয়ার এই ১০টি উপকারিতা আপনাকে চমকে দেবে
  • সমীক্ষায় দেখা গেছে প্রায় প্রত্যেকটা বাড়িতে তাদের ব্যক্তিগত জীবনে অনেক পার্সোনাল প্রব্লেম এর জন্য তাদের মধ্যে অনেক stress develop হয় যার জন্য এই সকল মানুষ কম বেশি টেনশন এর শিকার হয়ে থাকেন।

আরও পড়ুন: Meditation এর উপকারিতা, কৌশল, সাবধানতা

স্ট্রেস এবং টেনশন দূর করার উপায়

১. বর্তমান জীবনে অতিরিক্ত চাহিদা টেনশন এর একটা বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই নিজের চাহিদা কে নিজের ক্ষমতা অনুযায়ী বাঁধা প্রয়োজন।

২. কোনো বিশেষ কিছু ঘটনা কে নিয়ে টেনশন হলে বেশি অস্থির হবেন না। যেকোনো সমস্যার গুরুত্ব সময়ের সাথে সাথে কমতে থাকে। কাজে এই ঘটনার গুরুত্বও কমে যাবে কিছুদিনের মধ্যে। 

৩. টেনশন এর সময় এমন মানুষের পশে থাকার চেষ্টা করবেন যে আপনাকে সাহস এবং শক্তি দিতে পারবে। 

৪. যতটা পারবেন চেষ্টা করবেন আপনার টেনশনকে কোনো কাছের মানুষের কাছে প্রকাশ করে  নিজেকে হালকা করা। এটাও হতে পারে সেই মানুষটার থেকে আপনি ভালো কোনো সমস্যার সমাধান পেয়ে গেলেন।

৫. নিজের কাজ মন দিয়ে করে যান,ফলাফল সবসময় আশানুরূপ নাও হতে পারে। তাই নিয়ে অযথা ভেঙে পড়বেন না।

৬. কি পাননি তার হিসাব না করে কি পেয়েছেন বা ভবিষ্যৎ-এ কি পাবেন তার হিসাব করুন।

৭. নিজের উপর বিশ্বাস হারাবেন না কোনও ভাবেই কোনও খারাপ পরিস্থিতিকে বদলে ভালকরা যায় কি না সেটা নিয়ে ভাবুন, কিন্তু তা সম্ভব না হলে অকারণে সেই পরিস্থিতির পরিণতি নিয়ে ভাববেন না, জীবন জীবনের নিয়মেই এগোবে, তাই তা নিয়ে অযথা দুশ্চন্তাকরবেন না।

৮. মনের ভিতর কখনো রাগ পুষে রাখবেন না,কারণ রাগ থেকে কোনো ভালো চিন্তা আসেনা। তাই শেষে সেটা আপনারই ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

৯. সমাজে প্যারানয়েড ব্যক্তিত্বের মানুষ অনেক আছে যারা কারণ-অকারণে অন্যের জীবনে ব্যঙ্গবিদ্রূপ করে অনেক আনন্দ পান।  চেষ্টা করবেন তাদের থেকে যথা সম্ভব দূরে থাকতে। ফলে অনেক অযথা টেনশন থেকে আপনি মুক্তি পাবেন।

Read More:  ফ্যাটি লিভারের ডায়েট চার্ট। Diet Chart for Fatty Liver in Bengali

১০. ঘনিষ্ট সম্পর্ক্যে টেনশন থাকলে তাকে বেশি পুরানো হতে দেবেনা না , যত তাড়াতাড়ি পারবেন আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করতে। এতে অনেক মানুষিক শান্তি ফিরে আসবে।

১১. ঈর্ষা মানুষের জীবনে অনেক টেনশন নিয়ে আসে। তাই আপনার আসে পাশের মানুষ আপনার থেকে কি বেশি পেলো সেই নিয়ে না ভেবে আপনি নিজের কাজ, পড়াশোনা, সংসার নিয়ে ভাবুন। এতে আপনার জীবন অনেক সুন্দর হয়ে উঠবে।

১২. কোনো সম্পর্ক্য বা কোনো বিষয় যদি আপনার অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় তাহলে সেই বিষয় থেকে বা সম্পর্ক্য থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন বা এড়িয়ে চলুন।  এতে আপনার টেনশন অনেক কমে যাবে।

১৩. মাঝে মাঝে কোথাও বন্ধু বা আপনজনের সাথে ঘুরে আসুন। দেখবেন এতে মনের দুশ্চিন্তা বা টেনশন অনেক হালকা হয়ে গেছে।

১৪. জীবনকে একটু সহজ ভাবে নিতে শিখুন তাতে টেনশন কমবে খুব সহজে।

একটা কথা সর্বদা মনে রাখবেন,আমাদের সকলকে একদিন উপরে ভগবানের কাছে চলে যেতে হবে তাই জীবনের চলার পথে দুঃখ কষ্ট,মান অভিমান, অশান্তি ইত্যাদি দূরে সরিয়ে আনন্দের সাথে বাঁচার চেষ্টা করতে হবে  যাতে আমরা অনেক টেনশন মুক্ত হয়ে সহজ ভাবে জীবন কাটাতে সক্ষম হই। কারণ জীবন একটাই,তাই এই সুন্দর জীবনকে উপভোগ করা আমাদের একান্ত কাম্য।

Leave a Comment