2022 টাকা জমানোর সবচেয়ে ভালো উপায়। Best Investment Plan 2022 in Bengali

Share It!

টাকা, জীবনের একটা অত্যন্ত মূল্যবান জিনিস। টাকা ছাড়া আজকের দিনে survive করা অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু আপনি প্রচুর খেটে রোজগার তো করলেন কিন্তু তার সাথে খরচ ও করে ফেললেন। দিনের শেষে আপনি দেখলেন আপনার ব্যালেন্স জিরো বা শুন্য। এটা করলে কিন্তু আপনারই ক্ষতি। Corona মহামারিতে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাজ চলে গেছে, তাদের রোজগার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে এবং এই বিপর্যয়ের মুখে এই সঞ্চয়ের টাকাই একমাত্র ভরসা।

Best Investment Plan 2021 in Bengali

তাই সঠিক সময়ে জীবনে সঞ্চয় করাও একটা  গুরুত্ব পূর্ণ কাজ। রোজগারের সাথে সাথে আপনাকে টাকা জমানোর কথাও ভাবতে হবে। কিন্তু তার জন্য চাই একটা সঠিক পরিকল্পনা, না হলে আপনার রিটায়ারমেন্টের পরবর্তী সময়ে বা মহামারির মতো অবস্থায় আপনার জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। তাই আজকে আপনাদের জানাবো টাকা জমানোর সহজ কিছু উপায়।

    Asset এবং Liabilities কি 

    আমরা আমাদের জীবনে দুটো ভাগ করতে পারি একটি অ্যাসেট (asset) যা আমাদের টাকাকে বাড়াতে সাহায্য করে আর একটা লায়াব‍্যেলিটি (liabilities) যা আমাদের টাকার মূল্যকে কমিয়ে দেয়। তাই প্রথমেই আমাদের এই দ্বিতীয় ভাগটা কে কমিয়ে ফেলতে হবে। আর প্রথম ভাগটা কে বাড়িয়ে ফেলতে হবে। আমরা কি কি ভাবে টাকা জমাতে পারি বা বাড়াতে পারি এই নিয়ে আমরা অনেকেই চিন্তিত থাকি। এর জন্য চাই একটা সঠিক ফিন্যান্সিয়াল প্ল্যান (Financial Plan)। 

    আসুন এবার জেনেনি টাকা জমানোর কয়েকটি সহজ উপায় 

    ব্যাঙ্কে Fixed Deposit (FD) করে টাকা সঞ্চয়

    আপনি আপনার প্রত্যেক মাসের রোজগার থেকে কিছু টাকা ব্যাংকে জমাতে পারেন আপনার সেভিংস একাউন্টে। এখানে আপনি বছরে কিছু শতাংশ সুদ পাবেন। কিন্তু আপনি যদি ফিক্সড ডিপোজিট করে রাখেন তাহলে আপনি বেশি Interest পাবেন। মনে রাখবেন সেভিংস একাউন্টে ব্যাংক আপনাকে যত শতাংশ সুদ দেয় ফিক্সড ডিপোজিটে তার থেকে একটু বেশি সুধ দেয়। 

    এটা সম্পুর্ন্য ভাবে নির্ভর করবে আপনার বয়স এবং কত সময় পর্যন্ত্য (Time period) এই FD রাখতে চান তার উপর। আপনার বয়স যদি ৬০ বছরের উপরে হয় তাহলে বেশি Interest পাবেন র যদি ৬০ বছরের কম হয় তাহলে interest rate একটু কম হবে।

    Best FD Rates in India among Top 10 Banks

    Updated on – 14 Jul 2021

    FD Table

    আরও পড়ুন: জাঙ্ক ফুড শরীরে কিরকম প্রভাব ফেলতে পারে – জানুন ৯টি সমস্যা

    পোস্ট অফিসে সঞ্চয় 

    টাকা জমানোর ক্ষেত্রে পোস্ট অফিসও আপনার কাছে একটি ভালো অপশন হতে পারে। আপনি পোস্ট অফিসে সেভিংস একাউন্টে টাকা রাখতে পারেন। এছাড়া আপনি মান্থলি ইনকাম স্কিমে ও টাকা রাখতে পারেন। পোস্ট অফিসে মান্থলি ইনকাম স্কিমে (MIS) ৬.৬০% সুদ দিয়ে থাকে।  বিভিন্ন টার্মডিপোজিটে ও টাকা জমাতে পারেন।

    এছাড়াও আপনি এখানে Recurring deposit (RD) করতে পারেন। এখানে চক্রবৃদ্ধি হারে (Compound quarterly Interest) টাকা বাড়তে থাকে, যেটা long term বেশ লাভ জনক হয়। পোস্ট অফিস এখানে বছরে ৫.৮০% হারে সুধ দিয়ে থাকে। এটি সর্বাধিক ৫ বছরের জন্য করা যায়। Minimum deposit বছরে ১০০ টাকা প্রতি মাসে করতে হবে। 

    আরও পড়ুন: Lockdown বাড়ি থেকে Online অর্থ উপার্জন করার উপায়

    পাবলিক প্রভিডেন্ড ফান্ডে (PPF) সঞ্চয়

    PPF বা পাবলিক প্রভিডেন্ড ফান্ডেও টাকা সঞ্চয় করার একটা অন্যতম উপায়। যারা সরকারি চাকরি করেন না বা কোনো ব্যবসা করেন তারাও এই খাতে টাকা সঞ্চয় করতে পারবেন। যেকোনো সরকারি অধীনস্ত ব্যাঙ্ক যেমন SBI, Indian Bank, Union Bank, Central Bank ইত্যাদি যেকোনো একটা ব্যাঙ্কে  আপনি এই account খুলতে পারেন। 

    এই পদ্ধতিতে টাকা সঞ্চয় করার সবচেয়ে সুবিধা হলো এটি চক্রবৃদ্ধি হারে (Compound Interest) বাড়তে থাকে। তবে আপনাকে মনে রাখতে হবে যে প্রতি বছর আপনাকে minimum ৫০০ টাকা জমা করতে হবে এবং বছরে সর্বাধিক ১.৫০ লক্ষ টাকা অব্দি জমা করা যায়। 

    এই account এর locking period থাকে ১৫ বছর, যদিও আপনি চাইলে পরে আরও ৫ বছর extend করতে পারেন। এতে টাকার অঙ্কটাও বেশ অনেকটা বেড়ে যাবে। শুধু তাই নয় জমা টাকার উপর আপনি under Section 80C অনুযাযী Income Tax ছাড় পাবেন। 

    মোটামুটি এখন PPF Rate – 7.10% per year 

    শেয়ার মার্কেট ইনভেস্টমেন্ট

    শেয়ার মার্কেট নিয়ে অনেক রকম মিথ আমরা শুনতে পাই এই ধরুন যেমন শেয়ার মার্কেট জুয়া খেলার অন্যতম রাস্তা ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু আপনি কি জানেন টাকা বাড়ানোর একটা অন্যতম এবং সবচেয়ে এফেক্টিভ ওয়ে হলো শেয়ার মার্কেটে ইনভেস্ট করা। কিছু সময়ের জন্য কোনো কোম্পানির শেয়ার কিনে পরে তা বেঁচে দিলে তা থেকে আপনি টাকা বাড়াতে পারেন। এই কেনা বেচার জন্য আপনার দরকার একটা ডিম্যাট একাউন্ট। 

    হ্যাঁ তবে এই পথে রিস্ক একটু আছে বটে। এখানে আপনার টাকা যেমন বাড়তে পারে তেমন কমে এসে তলানিতেও ঠেকতে পারে। তাই ভালো করে না বুঝে শেয়ার মার্কেটে টাকা ইনভেস্ট করতে যাবেন না। তবে এই কথা শুনে ভয় পেয়ে যাবেন না প্লিজ। শেয়ার মার্কেট কোনো রকেট সায়েন্স নয় এটা বোঝার জন্য লাগে একটু ইচ্ছে আর সামান্য বুদ্ধি। 

    আপনি যদি বুঝেসুঝে ভালো জাতের স্টক এ ইনভেস্ট করতে পারেন তাহলে বছরে মোটামুটি ৮% থেকে ১২% return আছে যা কোনো সাধারণ ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিস এ জমানো সঞ্চয়ের চেয়ে বেশি।  

    তবে ইনভেস্ট করার আগে আপনি ভালো করে study করে বা কোনো financial advisor এর সাথে পরামর্শ করে নেবেন। যদি আপনি Part – time হিসাবে ইনভেস্ট করতে চান তাহলে একটু বেশি সময় ধরে রাখবেন। মোটামুটি ৬ মাস থেকে ১ বছর পর্যন্ত রাখা ভালো। এতে ভালো return পাওয়া যায়।

    আরও পড়ুন: শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর ১৩ টি সহজ উপায়

    মিউচুয়াল ফান্ডে (Mutual Fund) সঞ্চয়

    টাকা ইনভেস্ট করার বা টাকা বাড়ানোর আরো একটি ভালো পন্থা হলো মিউচুয়াল ফান্ড। এখানে আপনার টাকা কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানিতে ইনভেস্ট হবে না। অনেক গুলো কোম্পানির মধ্যে ভাগ হবে। তাই মিউচুয়াল ফান্ডে টাকা ইনভেস্ট করলে আপনার টাকা একেবারে তলানিতে এসে ঠেকার সম্ভবনা নেই। কারণ একটা কোম্পানি ক্ষতির দিকে গেলেও অন্য কোম্পানির ক্ষতি না ও হতে পারে। 

    তবে এতেও খানিক রিস্ক আছে সঠিক মিউচুয়াল ফান্ড বাছার বিষয়ে। তাই আপনি যদি সঠিক মিউচুয়াল ফান্ড বাছতে পারেন এবং আপনার কাছে কোনো একটি নিৰ্দিষ্ট কোম্পানির শেয়ার কেনার পর্যাপ্ত টাকা নেই কিন্তু আপনি শেয়ার মার্কেটে টাকা ইনভেস্ট করতে চান তখন আপনি মিউচুয়াল ফান্ডে টাকা বিনিয়োগ করতে পারেন। নূন্যতম ৫০০ টাকা থেকে মিউচুয়াল ফান্ডে টাকা বিনিয়োগ করা যায়।

    এখানে প্রধানত তিন টাইপের fund হয়। 

    • Large-cap Fund 
    • Mid-cap Fund 
    • Small-cap Fund 

    তবে এখানেও ইনভেস্ট করার আগে আপনি ভালো করে study করে বা কোনো financial advisor এর সাথে পরামর্শ করে নেবেন।

    লাইফ ইন্স্যুরেন্স পলিসিতে (LIC) সঞ্চয়

    আপনি যদি ভবিষ্যতের কথা ভেবে টাকা জমাতে চান বা লং টার্ম (Long Term) কোথাও টাকা রাখতে চান তাহলে LIC আপনার জন্য একটি ভালো অপশন। এখানে আপনি বিভিন্ন প্ল্যান পেয়ে যাবেন। আপনি  এখানে ১,২,৩ বছর লং টার্মের জন্য টাকা জমাতে পারেন। আপনি চাইলে ২০ থেকে ৩০ বছর অব্দিও টাকা রাখতে পারেন।  

    LIC এর সবচেয়ে বোরো সুবিধা হলো আপনি under Section 80C অনুযায়ী Income Tax ছাড় পাবেন যেটা একজন চাকুরীজীবির জন্য আদর্শ। এছাড়াও এখানে বিশেষ কিছু Investment Plan আছে যেখানে আপনার যদি হটাৎ accidental death হয় তাহলে আপনি SA (Sum Assured) double টাকা পাবেন। তাই LIC তে ইনভেস্ট করার আগে ভালো করে কোনো এজেন্ট এর থেকে information নিয়ে তবেই invest করবেন।

    আরও পড়ুন: দাঁতকে ভালো রাখার ৭টি ঘরোয়া উপায়

    জমি ক্রয় (Land Investment) 

    শুরুতেই বলেছি অ্যাসেট আর লায়াবেলিটির কথা। বাড়ি কিন্তু একটা অ্যাসেট। আপনার যদি বাড়ি বা জমি কেনার পর্যাপ্ত টাকা থাকে এবং তার সাথে জীবন অতিবাহিত করার জন্য ও পর্যাপ্ত টাকা থাকে তবেই আপনি জমি বা বাড়ির জন্য টাকা ইনভেস্ট করবেন। মনে রাখবেন এই বাড়ি কিন্তু লং টার্ম ইনভেস্টমেন্ট। ভবিষ্যতে আপনি এই জমি বেচে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। 

    সোনা কিনে সঞ্চয় (Gold Investment)

    সোনা তো সোনাই হয় তাই না! আপনার কাছে যদি সোনা কেনার পর্যাপ্ত টাকা থাকে তাহলে আপনি সোনা কিনে রাখতে পারেন। সোনা যদি কিনে রাখেন ভবিষ্যতে যদি কখনো আপনার টাকার দরকার পরে তাহলে আপনি সেই সময় সোনার যা দাম থাকবে সেই দামেই সোনা বিক্রি করতে পারবেন। 

    মানে ধরুন আজ আপনি যদি এক ভরি সোনা কেনেন ১০০০০ টাকায় তাহলে আজ থেকে ৬ বছর পরে যদি সোনার দাম ২০০০০ হয় তাহলে তখন যদি আপনি সোনা বিক্রি করতে চান তাহলে আপনি এক ভরি সোনা ২০০০০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারবেন। তাই গোল্ড ইনভেস্টমেন্ট লং টার্মের জন্য একটি ভালো ইনভেস্টমেন্ট। 

           এই উপরিউক্ত সব উপায় গুলিই আপনি অবলম্বন করতে পারেন। তবে কোনো খাতে টাকা বিনিয়োগ করবেন কোথায় টাকা রাখলে আপনার জন্য ভালো তা আপনাকে ঠিক করতে হবে আর যদি নিজে ঠিক করতে বা পারেন তার জন্য আপনি যেকোনো ফিন্যান্সিয়াল এক্সপার্টের কাছ থেকে পরামর্শ নিতে পারেন। মনে রাখবেন সঠিক ভাবে টাকা জমাতে পারলে আপনার ভবিষ্যৎ সুন্দর হওয়া থেকে কেউ আটকাতে পারবে না। 

    আরও পড়ুন: 2021 টাকা জমানোর সবচেয়ে ভালো উপায়।

    আরও পড়ুন: Antilia – বিশ্বের দ্বিতীয় ব্যয়বহুল বিল্ডিং, World 2nd Most Expensive Building

    Leave a Comment